ঢাকা: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার মান বাড়াতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির 'ইএইএস প্লাস সেন্টার' এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর যৌথ উদ্যোগে চলমান একটি প্রকল্পের অধীনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, স্থপতিসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য একটি সমন্বিত সার্টিফিকেট কোর্স চালুর লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন।

সম্প্রতি এনএসইউ’র সিন্ডিকেট হলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট অতিথিদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

  • জনাব আরিফ আহমেদ খান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।

  • অধ্যাপক নেসার ইউ. আহমেদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

এছাড়াও সভায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। এদের মধ্যে কানাডা, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), এপিলিয়ন গ্রুপ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, মোনাকো লিমিটেড, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এবং বিকেএমইএ-এর প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন— বুয়েট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইএসটি (MIST)-এর প্রতিনিধি ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেন।

টেকসই কর্মপরিবেশ ও আইএলও’র ভূমিকা

সভায় অধ্যাপক নেসার ইউ. আহমেদ বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবসময় শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আইএলও’র পক্ষ থেকে সংস্থাটির লেবার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস (এলএডব্লিউসি) ক্লাস্টারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিরান রামজুথান বক্তব্য রাখেন। তিনি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এনএসইউ’র ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইএলও’র পক্ষ থেকে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, এই উদ্যোগটি আইএলও’র ‘অ্যাডভান্সিং ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের একটি অংশ, যা ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ'-এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।

কোর্স মডিউল ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ

অনুষ্ঠানের একটি মূল আকর্ষণ ছিল প্রস্তাবিত কোর্সের খসড়া মডিউল উপস্থাপন। ড. মাহমুদ এ. শরীফ এবং জনাব শাহরিয়ার ইকবাল রাজ এই পাঠ্যক্রমের বিশদ কাঠামো তুলে ধরেন।

তারা জানান, বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলা করার উপযোগী করেই এই কোর্সটি সাজানো হয়েছে।

উপস্থাপনা শেষে একটি উন্মুক্ত আলোচনা বা পরামর্শ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত অংশীজনরা কোর্সটি আরও কার্যকর করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন, যার মধ্যে রয়েছে:

  • কোর্সটি পরিচালনার ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

  • সর্বস্তরের পেশাজীবীদের জন্য এটি সহজলভ্য করা।

  • পেশাগত বিভিন্ন রোগব্যাধি সংক্রান্ত বিষয়গুলো মডিউলে অন্তর্ভুক্ত করা।

  • প্রশিক্ষণের সময়সীমা বাড়িয়ে শিক্ষার মান আরও গভীর করা।

একটি সফল সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে এই সমন্বিত শিক্ষামূলক উদ্যোগটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।