জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়া
সিডনি: চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জরায়ুমুখ ক্যান্সার (Cervical Cancer) সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশটি। আগামী এক দশকের মধ্যেই এই মরণব্যাধিকে ইতিহাস বানিয়ে ফেলার পথে তারা সঠিক ট্র্যাকেই রয়েছে।
একটি ব্যক্তিগত লড়াই ও নতুন প্রজন্মের আশা
টুউম্বা শহরের বাসিন্দা ক্রিসি ওয়াল্টার্সের জীবনকাহিনী এই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং আগামীর আশাকে তুলে ধরে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মা হওয়ার মাত্র ছয় মাস পরেই তিনি জানতে পারেন যে তিনি জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন (টার্মিনাল)। তবে তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে এমন এক প্রজন্মে বড় হচ্ছে, যারা এই রোগের ছায়া ছাড়াই বেড়ে উঠবে। ২০২৬ সালে তার মেয়ে সেই বয়সে পৌঁছেছে, যখন অস্ট্রেলিয়া শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই ক্যান্সার নির্মূলের চূড়ান্ত লড়াই শুরু করেছে।
যেভাবে সফল হচ্ছে এই অভিযান
অস্ট্রেলিয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মূলত দ্বিমুখী একটি কৌশল:
এইচপিভি (HPV) টিকাদান: অস্ট্রেলিয়ার হাইস্কুলগুলোতে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি-র টিকা দেওয়া হয়। এই ভাইরাসটিই জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রধান কারণ।
নিয়মিত স্ক্রিনিং: টিকা দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিশ্বনেতা হিসেবে অস্ট্রেলিয়া
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারেন ক্যানফেল, যিনি এই গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ, জানান যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার মতে, প্রায় প্রতিটি পরিবারই কোনো না কোনোভাবে এই রোগের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই এটি নির্মূল করা একটি আবেগপূর্ণ লক্ষ্যও বটে।
যদি এই পরিকল্পনা সফল হয়, তবে এটি হবে চিকিৎসা ইতিহাসের অন্যতম বড় জয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারকে পৃথিবী থেকে প্রায় মুছে ফেলা সম্ভব হবে।
