বাগদাদ — ১০ মে, ২০২৬: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরাকের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার খবর নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা সূত্রগুলো। নাজাফ মরুভূমির একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

গোপন ঘাঁটির অবস্থান ও উদ্দেশ্য

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই সাদ্দাম হোসেনের আমলে নির্মিত একটি নির্জন বিমানঘাঁটিতে এই গোপন আস্তানা গড়ে তোলা হয়। নাজাফের এই দুর্গম মরুভূমি অঞ্চলটি মূলত জনমানবহীন, যা বিদেশি বাহিনীর কার্যক্রম গোপন রাখার জন্য সহায়ক ছিল।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘাঁটির মূল লক্ষ্য ছিল:

  • লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট: ইরানে বিমান হামলা পরিচালনাকারী ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া।

  • উদ্ধার অভিযান: ইরানি আকাশসীমায় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে তাদের দ্রুত উদ্ধার করতে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী সেখানে মোতায়েন ছিল।

  • রাডার ও জ্যামিং: এলাকাটিতে অত্যাধুনিক রাডার এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং সরঞ্জাম বসানো হয়েছিল যাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়ানো যায়।

ইরাকি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ

যুদ্ধের শুরুর দিকে, অর্থাৎ ৫ মার্চ নাগাদ স্থানীয় এক মেষপালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি সেনাবাহিনী ওই এলাকায় তল্লাশি চালাতে যায়। সেই সময় বিদেশি বাহিনীর বিমান হামলায় একজন ইরাকি সৈন্য নিহত এবং দুইজন আহত হন।

ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস-এর ডেপুটি কমান্ডার কায়েস আল-মোহামাদাউই জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে কোনো বিদেশি সেনার অবস্থানের অনুমতি ছিল না। যদিও বর্তমানে সেখানে কোনো সৈন্য নেই, তবে তারা রাডারসহ বেশ কিছু উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ফেলে গেছে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।


মার্কিন ও ইসরায়েলি সমন্বয়

ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, এই পুরো অপারেশনটি আমেরিকার সামরিক সুরক্ষায় এবং তাদের সাথে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই এলাকায় সিএইচ-৪৭ চিনুক (CH-47 Chinook) হেলিকপ্টারের আনাগোনা দেখেছিলেন, যা সাধারণত পশ্চিমা বাহিনী ব্যবহার করে।

সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ

ইরাকের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর এই গোপন উপস্থিতি বাগদাদে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ইরাক সরকার শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বাইরে থাকার চেষ্টা করলেও তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কৌশলগত জোট কাজ করছে।