সিডনি, ২১ মে ২০২৬ — শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অনলাইন নিরাপত্তা আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় X Corp-কে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত।

ইলন মাস্ক মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ স্বীকার করার পর আদালত এ রায় দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি কমিশন’ ২০২৩ সালে প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। অভিযোগ ছিল, শিশুদের যৌন শোষণ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে— সে বিষয়ে চাওয়া তথ্য যথাযথভাবে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছিল প্ল্যাটফর্মটি।

আদালতের নির্দেশে জরিমানা ও আইনি খরচ পরিশোধ

আদালত Elon Musk-এর মালিকানাধীন এক্স করপোরেশনকে ৬ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করার পাশাপাশি আরও ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আইনি ব্যয় পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারক মাইকেল হুইলাহান বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এমন শাস্তি কার্যকর বার্তা হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন, যাতে তারা আইন লঙ্ঘনকে সাধারণ ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে না দেখে।

টুইটার থেকে ‘এক্স’ হওয়ার পর শুরু হয় আইনি বিতর্ক

মামলার সূত্রপাত হয় তখন, যখন প্রতিষ্ঠানটির নাম এখনও Twitter ছিল। পরবর্তীতে টুইটার এক্স করপোরেশনে রূপান্তরিত হওয়ার পর কোম্পানিটি দাবি করেছিল, আগের প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো নির্দেশনা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে জানায়, করপোরেট পরিবর্তনের পরও তথ্য প্রদানের দায়বদ্ধতা বহাল থাকে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা জরুরি: ই-সেফটি কমিশনার

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার Julie Inman Grant রায়ের পর বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ

বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বড় প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শিশু সুরক্ষা ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও অনলাইন নিরাপত্তা আইনে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে।