ওয়াশিংটন ডিসি:
১৯৯৬ সালের এক বিতর্কিত বিমান হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।


বুধবার মায়ামিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়। দীর্ঘ তিন দশক আগে মায়ামি-ভিত্তিক সংগঠন 'ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ'-এর দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর দায়ভার সরাসরি কাস্ত্রোর ওপরই চাপিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

মায়ামির একটি গ্র্যান্ড জুরি কর্তৃক ২৩ এপ্রিল এই অভিযোগপত্র গৃহীত হয় এবং বুধবার তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। অভিযোগপত্রে রাউল কাস্ত্রোকে নিম্নোক্ত অপরাধগুলোর জন্য দায়ী করা হয়েছে:

  • মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র: তৎকালীন কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি এই সামরিক অভিযানের নির্দেশদাতা ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

  • পরিকল্পিত হত্যা: ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূপাতিত বিমান দুটিতে চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন।

  • বিমান ধ্বংসের অভিযোগ: আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় থাকা নিরস্ত্র বিমান লক্ষ্য করে সামরিক হামলার দায়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রতীকী অভিযোগ নয়, বরং একটি আইনি প্রক্রিয়া যা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নাগরিকদের ওপর হওয়া এই হামলার ঘটনা ভুলে যায়নি।" ইতোমধ্যে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসন তার উপস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে।

কিউবার তীব্র নিন্দা

কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি "রাজনৈতিক চাল" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হাভানার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন কিউবা সরকার তাদের জলসীমায় অনধিকার প্রবেশকারী উড়োজাহাজের বিরুদ্ধে বৈধ আত্মরক্ষা করেছে।

কিউবার দাবি, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য বর্তমান পরিস্থিতিকে পুঁজি করে কিউবার ওপর সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করা।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনার পর কিউবার সাবেক নেতার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান "সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ" নীতির অংশ হিসেবেই একে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।


তবে রাউল কাস্ত্রোর মতো একজন প্রবীণ নেতাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কিউবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায়, এই পরোয়ানা কার্যকর করা মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।