ট্রাম্প-শি সমঝোতা কি তবে ইরানের পরমাণু স্বপ্নের শেষ? বেইজিংয়ের ‘বিশেষ অভ্যর্থনা’র আড়ালে লুকিয়ে আছে কোন গোপন চুক্তি?
বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ঝংনানহাই প্রাঙ্গণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে একমত হয়েছেন।
এই সফরের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে ঐক্য
উভয় পরাশক্তি এই মর্মে ঐকমত্যে পৌঁছেছে যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হতে দেওয়া যাবে না। বর্তমানে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অর্জনের খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি নিরাপত্তা
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এর মধ্যেই ইরান জানিয়েছে যে তারা কিছু নির্দিষ্ট জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও 'শত্রু দেশগুলোর' ওপর অবরোধ বজায় রাখছে। এই সংকট মোকাবিলায় চীন এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে আলাস্কা থেকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য
সফর শেষে ট্রাম্প একে একটি "বিরাট বাণিজ্যিক বিজয়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য চুক্তির মধ্যে রয়েছে:
বোয়িং বিমান: চীন মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২০০টি নতুন জেট বিমান কেনার চুক্তি করেছে।
কৃষি পণ্য: মার্কিন কৃষকদের স্বস্তি দিতে চীন আগামী তিন বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা
সহযোগিতার কথা থাকলেও তাইওয়ান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক শান্তি একসাথে চলা সম্ভব নয়। যদি এই ইস্যুটি সঠিকভাবে সমাধান না করা হয়, তবে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি
বেইজিংয়ের এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের মধ্যেই ফিলিস্তিন ও লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উত্তর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে আরও একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই শীর্ষ সম্মেলন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে, যেখানে একদিকে যেমন বিশাল বাণিজ্যের হাতছানি রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের দামামা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।
