ঢাকা, ৭ মে ২০২৬: ক্যাম্পাসজুড়ে একটি সুরক্ষিত, সমতাভিত্তিক এবং মর্যাদাপূর্ণ পেশাদার সংস্কৃতি বজায় রাখার লক্ষ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ ফ্যাকাল্টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গত ৫ ও ৬ মে ২০২৬ তারিখে "ফস্টারিং রেসপেক্টফুল ওয়ার্কপ্লেসেস: অ্যাওয়ারনেস অফ সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি" শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইকিউএসি-এর পরিচালক ড. হালিমুর আর খান। তিনি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং যেকোনো ধরনের নিগ্রহ বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে এনএসইউ-এর কঠোর 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখার এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস নিয়মিত বিরতিতে ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নৈতিক মূল্যবোধ ও প্রাত্যহিক আচরণের গুরুত্বে শীর্ষ নেতৃত্ব

কর্মশালাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একদল দূরদর্শী শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব:

  • অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, মাননীয় উপাচার্য, এনএসইউ

  • অধ্যাপক ড. নাসার ইউ আহমেদ, উপ-উপাচার্য, এনএসইউ

  • অধ্যাপক আবদুর রব খান, কোষাধ্যক্ষ, এনএসইউ

উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়নে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং একটি সম্মানজনক শিক্ষা সংস্কৃতি বিনির্মাণে এ ধরনের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার তাগিদ দেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসার ইউ আহমেদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্যাম্পাসে উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড এবং লিঙ্গ সমতা বজায় রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, কেবল নীতিমালার ওপর নির্ভর না করে মানুষের প্রাত্যহিক আচরণের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব খান বলেন:

"কেবল নীতিমালার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক কর্মক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। এটি গড়ে ওঠে আমাদের প্রতিদিনের আচরণের মধ্য দিয়ে—আমরা কীভাবে কথা বলি, কেমন আচরণ করি, অন্যের প্রতি কীভাবে সাড়া দিই এবং আমাদের চারপাশের মানুষের মর্যাদাকে কতটুকু সম্মান জানাই, তার ওপরই এটি নির্ভর করে।"


ব্যবহারিক কেস স্টাডি ও দলগত অংশগ্রহণ

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালার বিভিন্ন সেশন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন দুজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষক: এনএসইউ-এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সহকারী অধ্যাপক ও সমাজকর্মী ড. আবন্তী হারুন

প্রথাগত লেকচারের গণ্ডি পেরিয়ে সেশনগুলোকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে বাস্তবমুখী বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ (কেস স্টাডি), তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন এবং পারস্পরিক দলগত অনুশীলনের সাহায্য নেওয়া হয়। কর্মশালায় মূলত যেসব বিষয় গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়:

  • কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সচেতনতা

  • প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর লিঙ্গ সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ

  • পেশাগত আচরণবিধি এবং নৈতিকতার চর্চা

  • একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখার যৌথ দায়িত্ব

উভয় দিনের সফল সেশন শেষে আমন্ত্রিত প্রশিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রথম দিনে অধ্যাপক নোভা আহমেদ এবং দ্বিতীয় দিনে অধ্যাপক আবন্তী হারুনের হাতে এই সমাপনী স্মারক তুলে দেওয়া হয়।