বিচারপতিকে সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থা: কেজরিওয়াল ও আপ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা
নয়াদিল্লি — দিল্লির বিতর্কিত আবগারি নীতি মামলার শুনানিতে বিচারপতির বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচারণা ও কুরুচিকর আক্রমণের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া এবং আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা।
বিচারপতি জানান, এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিবাদীরা সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিচারিক সক্ষমতাকে আক্রমণ করছেন, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ‘সুসংগঠিত প্রচারণা’
বৃহস্পতিবার এজলাসে বিচারপতি শর্মা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের এডিট করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাইরে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে একটি বিকল্প বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে বিচার বিভাগকে ভয় দেখানোর এই অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না।”
বিচারপতির মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র একজন বিচারককে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্থা করা নয়, বরং দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র।
আইনি লড়াই ও বয়কট প্রসঙ্গ
সম্প্রতি অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিচারপতি শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁকে এই মামলা থেকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবি খারিজ হওয়ার পর থেকেই আপ নেতারা আদালতের কার্যক্রম বয়কট করতে শুরু করেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেজরিওয়াল বলেন, “বিচারপতি শর্মার কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা আমার শেষ হয়ে গেছে। গান্ধীজির সত্যাগ্রহের আদর্শ মেনে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই আদালতে আর কোনো শুনানি বা যুক্তিতে অংশ নেব না।”
বিচার বিভাগের প্রতিক্রিয়া
আদালত অবমাননার রুল জারি করে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে, বিচার বিভাগ কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি বলেন, “বিচারকদের কাজ হলো শান্তভাবে আইন পরিচালনা করা, কিন্তু কখনো কখনো নীরবতা বিচারিক সংযম হিসেবে গণ্য হয় না। প্রতিষ্ঠান হিসেবে যখন আদালতকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, তখন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া বিচারপতির কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।”
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতের বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের সরাসরি সংঘাত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ভারতের বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।
