বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি মেগা সামিট: বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ কি হতে যাচ্ছে?
ট্রাম্পের এবারের সফর কেবল একটি কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তার এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন টেসলার সিইও ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের টিম কুকের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্টরা।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যা থাকছে:
বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চারটি প্রধান এজেন্ডা প্রাধান্য পাচ্ছে:
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও তেলের বাজার: হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে চীনের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চান ট্রাম্প।
এআই এবং চিপ যুদ্ধ: চীনের ক্রমবর্ধমান রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর মার্কিন বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে বেইজিং চাপ দেবে।
বাণিজ্য ব্যবধান কমানো: ট্রাম্প চীনের বাজার মার্কিন কৃষি পণ্য এবং বোয়িং বিমানের জন্য আরও উন্মুক্ত করার দাবি জানাবেন, যাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা যায়।
তাইওয়ান সংকট: গত বছর তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন নিয়ে চীনের অসন্তোষ থাকলেও, ট্রাম্প স্পষ্ট করতে চান যে তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকার অবস্থান আপসযোগ্য নয়।
সাইবারপাংক সিটির হাতছানি
ট্রাম্প যখন বেইজিংয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, তখন চীনের চংকিং (Chongqing) শহরের মতো আধুনিক মহানগরীগুলো বিশ্বের নজর কাড়ছে। "৮ডি" আর্কিটেকচার এবং নিয়ন আলোয় ঘেরা এই শহরটি আজ চীনের প্রযুক্তিগত আধিপত্যের প্রতীক। তবে এই ঝলমলে অগ্রগতির আড়ালে চীনের বিশাল ঋণের বোঝা এবং ধীরগতির আবাসন খাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা সুবিধা নিতে পারবে, সেটাই দেখার বিষয়।
আগামীকাল শুক্রবার জংনানহাই গার্ডেনে একটি কার্যনির্বাহী মধ্যাহ্নভোজ এবং দুই নেতার একটি ঐতিহাসিক "বন্ধুত্বপূর্ণ ছবি" তোলার মাধ্যমে এই সফর শেষ হবে।
