ওয়াশিংটন / তেহরান / ইসলামাবাদ, ১১ মে, ২০২৬ —মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ দশ সপ্তাহ ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরানের দেওয়া শর্তগুলোকে "সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করে তিনি কূটনীতির টেবিলে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি করেছেন।

আলোচনার টেবিলে তেহরানের প্রস্তাব

ইসলামাবাদ থেকে পাওয়া কূটনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের পাল্টা প্রস্তাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে—বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে—স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নিতে রাজি হলেও, নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার মার্কিন দাবিটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, তেহরান যুদ্ধের অবসান চায় তবে তা হতে হবে সম্মানজনক এবং তাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ভাষায় জানান যে, ইরান দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে "চাতুর্যপূর্ণ কূটনীতি" করছে এবং এখন আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।

পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক উত্তেজনা

সংবাদটি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সামরিক বাহিনীকে "সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়" থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামী নিয়া জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম মজুত কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা আকাশপথে হামলা ঠেকাতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরাতে প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


উপসাগরে ড্রোণ আতঙ্ক ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা

কূটনৈতিক এই টানাপড়েনের মাঝেই পারস্য উপসাগরে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার উপকূলে একটি জাহাজে রহস্যজনক ড্রোন হামলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় অজ্ঞাত ড্রোন প্রবেশের খবর নিশ্চিত করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। কাতার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যের জন্য এক "বিপজ্জনক উসকানি" বলে মন্তব্য করেছে।

মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক অবস্থান

যুদ্ধক্ষেত্রে সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। একইসাথে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির এতই অবনতি হয়েছে যে, সেখানে চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ফ্রান্স কোনো একতরফা সামরিক অভিযানে যাবে না। বরং তিনি একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশনের মাধ্যমে সমুদ্রপথে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দিয়েছেন।